Wednesday, October 30, 2024

একজন রিকশাচালকের ছেলের সফলতার গল্প ,

 একজন রিকশাচালকের ছেলের সফলতার গল্প 

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন,,


 কিছু গল্প থাকে যা শুধু সফলতার নয়, বরং সংগ্রাম, প্রত্যয়ের উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হয়। একজন রিকশাচালকের ছেলের জীবনও তেমন একটি গল্প।


রাকিবের বাবা ছোটবেলায় তাকে সবসময়ই বলতেন, "শিক্ষাই হলো তোমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ হাতিয়ার।" বাবার সামান্য আয়ে দিন চালানোই ছিল কষ্টের; তবুও বাবা কখনো হাল ছাড়েননি। সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রাকিবের পড়াশোনা বন্ধ হয়নি। বাবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং নিজেও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে রাকিব স্কুলে ভালো ফলাফল করতো।


একসময় রাকিবের স্কুলে পড়ার খরচ চালানোও বাবার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে, কিন্তু রাকিব পড়াশোনায় এতটাই মেধাবী ছিল যে, স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে বৃত্তির ব্যবস্থা করে দেয়। ধীরে ধীরে উচ্চশিক্ষার জন্য সে বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করতে থাকে এবং দেশের একটি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সে ভর্তি হয়।


বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে রাকিব একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি পায়। বাবার স্বপ্ন সত্যি করার জন্য রাকিব নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করে যায়। একদিন সে বড় কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সাফল্যের পেছনে ছিল তার বাবার আত্মত্যাগ, যিনি সারাজীবন রিকশা চালিয়ে ছেলের জন্য পথ তৈরি করেছিলেন।


রাকিব আজ সমাজে এক উদাহরণ। সে তার বাবার ত্যাগ, সংগ্রামকে কখনো ভুলেনি। সে এখন সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করে এবং বাবার কষ্টকে সার্থক করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


এই গল্পটি আমাদের শেখায়, অর্থ নয়, ইচ্ছা আর চেষ্টা মানুষকে সফলতার পথে নিয়ে যেতে পারে।

আরো দেখুন এখানে ক্লিক 

🥰ধন্যবাদ,,,,🥰

মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম

 

 

এক অসহায় মায়ের গল্প

 এক অসহায় মায়ের গল্প .....

বিস্তারিত এখানে ক্লিক করুন 

 

এখানে সুভদ্রার সংগ্রামী জীবনকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যেখানে তার ক্লান্ত মুখে আশার ঝিলিক দেখা যাচ্ছে। এই ছবির গোলাপি ছোঁয়া তার শক্তি এবং মায়ের ভালোবাসার প্রতীক।


বিরহীরার সকালবেলা। মাধবপুরের ছোট্ট গ্রামে সদ্য ভোর হতে শুরু করেছে। মাটির কুঁড়েঘরে এক অসহায় মা বসে আছেন, চোখেমুখে ক্লান্তি আর দুশ্চিন্তার ছাপ। তার নাম সুভদ্রা। সংসারের যত দুঃখ-কষ্ট তাকে একাই বয়ে যেতে হয়, তার কাঁধে স্বামীর মৃত্যু পরবর্তী সমস্ত দায়ভার এসে পড়েছে। তার দুটি ছেলে-মেয়ে, ছোট ছোট দুটি প্রাণ যাদের মুখের দিকে তাকিয়ে সুভদ্রা একাকী সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।


সুভদ্রার স্বামী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান কয়েক বছর আগে। সংসার যে কীভাবে চলবে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই চিন্তায় তার মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়েছিল যেন। নিজের জমিজমা কিছুই নেই, অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোভাবে সংসার চালান তিনি। অল্প ক’টা টাকায় একদিকে ছেলেমেয়েদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া, অন্যদিকে তাদের পড়াশোনা করানো— সবটাই যেন এক পর্বতসম বোঝা।


প্রতিদিন সকালে সুভদ্রা মাঠে কাজ করতে যান। রোদে-পুড়ে ক্লান্ত হলেও সন্ধ্যাবেলা ঘরে ফিরে যখন ছেলেমেয়েদের হাসি মুখ দেখে, তখন তার সমস্ত কষ্ট যেন কিছুটা লাঘব হয়। সন্তানেরা একটু ভালো থাকবে, একটু মানুষ হবে— এই আশায় তিনি সবকিছু সহ্য করে যাচ্ছেন। তিনি জানেন, তারা বড় হয়ে ভালো কিছু করতে পারলে তার জীবনের সব কষ্ট সার্থক হবে।


রাতে সন্তানদের ঘুম পাড়িয়ে সুভদ্রা একা বসে থাকেন, তার মাথায় ঘুরপাক খায় দুশ্চিন্তা। কতভাবে তিনি ভাবেন কেমন করে সংসারের এই দারিদ্র্যের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাওয়া যায়। তবু হাল ছাড়েন না তিনি। তার মনে বিশ্বাস, সংগ্রাম করে গেলে হয়তো কোনো একদিন সাফল্যের আলো দেখা মিলবেই।

আরো দেখুন এখানে ক্লিক করুন 



ধন্যবাদ 

মোঃ রবিউল ইসলাম

Friday, October 25, 2024

$20 গিফট কার্ড

 Cilick hear your gift card


ঠিক তাই, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নতুন গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন ধরণের গিফট অফার বা বোনাস অফার করে থাকে। সাধারণত এই ধরণের অফারগুলোতে আপনি সাইন-আপ বোনাস, রেফারেল বোনাস, বা নির্দিষ্ট ক্রয় বা লেনদেনের পর বিশেষ ডিসকাউন্ট বা গিফট কার্ড পেতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ:

1. সাইন-আপ বোনাস: নতুন গ্রাহক হিসেবে সাইন-আপ করলে সরাসরি ২০ ডলার বা সমপরিমাণ ক্রেডিট দেয়া হয়, যা পরবর্তীতে ব্যবহার করা যায়।


2. রেফারেল বোনাস: আপনি যদি কোনো বন্ধুকে রেফার করেন এবং তারা সাইন-আপ করে বা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে, তাহলে উভয়েই বোনাস পান।


3. ক্রয় বোনাস বা ক্যাশব্যাক: নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্রয় করলে বা প্রথম কেনাকাটায় ডিসকাউন্ট বা ক্রেডিট দেয়া হয়।



এধরণের অফারের শর্তাবলী সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রযোজ্য এবং কিছু শর্ত মানতে হয়।

Thursday, October 24, 2024

gift Card Claim Now

 Gift Card Claim Now


গিফট কার্ড বনাস......

এই ধরনের গিফট কার্ড বোনাস সাধারণত উৎসব, প্রোমোশনাল অফার, বা নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য সীমিত হয়ে থাকে।


Are you looking for a $5 gift card or a link to purchase one? If you're looking to claim or purchase a $5 gift card, I recommend visiting popular online platforms like:


Amazon


Google Play


Apple iTunes


Walmart


Target



These platforms often offer various amounts for gift cards, including $5. You can easily find and buy them through their websites or apps. Let me know if you'd like help navigating any specific store!


Gift Card Claim here

Sunday, October 20, 2024

flower & human life story.

 

flower & human life story

Once upon a time, in a small village surrounded by hills and fields, lived a kind-hearted gardener named Mira. Mira had a deep connection with nature, especially with flowers. She spent her days tending to a beautiful garden filled with vibrant roses, sunflowers, lilies, and daisies. The flowers bloomed with such beauty that villagers often visited to enjoy their fragrance and colors.


One day, as Mira watered her garden, she noticed a small, withering flower at the edge of the plot. Its petals were pale, and its stem weak. Unlike the other flowers, it hadn't flourished. Mira felt a deep compassion for the flower, seeing it not as weak but as needing extra care. She whispered to it every day, "You are strong, and you are beautiful, just like the others. Grow in your time."


Days turned into weeks, and Mira continued to nurture the little flower, giving it just the right amount of sunlight, water, and love. Slowly but surely, the flower began to grow, its petals regaining color and its stem standing tall. Eventually, it blossomed into the most unique flower in the garden, with colors that no one had ever seen before. The villagers marveled at its beauty and resilience.


Mira smiled and realized something important: the flower was like life itself. Just as the flower needed time, patience, and care to grow, so do people. Every human, like a flower, has their own pace of blooming. Some grow quickly, while others take more time. But with the right care, attention, and a little love, everyone eventually blossoms into their full beauty.


The lesson stayed with Mira, and she shared it with the villagers, who began to treat not just their gardens, but also each other, with more kindness and patience. From then on, the village became known for both its stunning flowers and the warmth of its people. And the once withering flower, now strong and radiant, stood as a symbol of resilience, hope, and the beauty of life's slow, steady bloom.

এক সময় পাহাড়-মাঠে ঘেরা একটি ছোট্ট গ্রামে মীরা নামে এক সহৃদয় মালী থাকতেন। প্রকৃতির সঙ্গে মীরার গভীর সম্পর্ক ছিল, বিশেষ করে ফুলের সঙ্গে। প্রাণবন্ত গোলাপ, সূর্যমুখী, লিলি এবং ডেইজিতে ভরা একটি সুন্দর বাগানে তিনি তার দিনগুলি কাটিয়েছেন। ফুলগুলি এমন সৌন্দর্যে ফুটেছিল যে গ্রামবাসীরা প্রায়শই তাদের সুবাস এবং রঙ উপভোগ করতে যেতেন।
একদিন, মীরা যখন তার বাগানে জল দিচ্ছিল, সে প্লটের প্রান্তে একটি ছোট, শুকনো ফুল লক্ষ্য করল। এর পাপড়ি ফ্যাকাশে এবং এর কান্ড দুর্বল। অন্যান্য ফুলের মতো, এটি ফুলে ওঠেনি। মীরা ফুলটির প্রতি গভীর সমবেদনা অনুভব করেছিল, এটিকে দুর্বল নয় বরং অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন দেখে। সে প্রতিদিন ফিসফিস করে বলেছিল, "তুমি শক্তিশালী, আর তুমি সুন্দর, অন্যদের মতোই। তোমার সময় বাড়াও।"



দিনগুলি সপ্তাহে পরিণত হয়, এবং মীরা ছোট্ট ফুলটিকে লালনপালন করতে থাকে, এটি ঠিক পরিমাণে সূর্যালোক, জল এবং ভালবাসা দেয়। ধীরে ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবে, ফুলটি বাড়তে শুরু করে, এর পাপড়ি রঙ ফিরে পায় এবং এর কান্ড লম্বা হয়। অবশেষে, এটি বাগানের সবচেয়ে অনন্য ফুলে ফুলে উঠেছে, এমন রঙের সাথে যা আগে কেউ দেখেনি। গ্রামবাসীরা এর সৌন্দর্য এবং স্থিতিস্থাপকতায় বিস্মিত হয়েছিল।



মীরা হাসল এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু বুঝতে পেরেছিল: ফুলটি জীবনের মতো ছিল। ফুলের বেড়ে ওঠার জন্য যেমন সময়, ধৈর্য এবং যত্নের প্রয়োজন, তেমনি মানুষেরও। প্রতিটি মানুষের, ফুলের মতো, প্রস্ফুটিত হওয়ার নিজস্ব গতি রয়েছে। কিছু দ্রুত বৃদ্ধি পায়, অন্যরা বেশি সময় নেয়। কিন্তু সঠিক যত্ন, মনোযোগ এবং একটু ভালবাসার সাথে, প্রত্যেকে অবশেষে তাদের পূর্ণ সৌন্দর্যে প্রস্ফুটিত হয়।



পাঠটি মীরার সাথেই ছিল, এবং তিনি এটি গ্রামবাসীদের সাথে ভাগ করে নিয়েছিলেন, যারা কেবল তাদের বাগান নয়, একে অপরের সাথে আরও দয়া এবং ধৈর্যের সাথে আচরণ করতে শুরু করেছিলেন। তারপর থেকে, গ্রামটি তার অত্যাশ্চর্য ফুল এবং এর মানুষের উষ্ণতার জন্য পরিচিত হয়ে ওঠে। এবং একসময় শুকিয়ে যাওয়া ফুল, এখন শক্তিশালী এবং দীপ্তিমান, স্থিতিস্থাপকতা, আশা এবং জীবনের ধীর, অবিচলিত প্রস্ফুটনের সৌন্দর্যের প্রতীক হিসাবে দাঁড়িয়েছে।


Friday, October 18, 2024

পরকীয়ার কথা স্বামী জেনে যাওয়ায় বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠলেন স্ত্রী...

 

পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি খুবই সংবেদনশীল এবং ব্যক্তিগত জীবনের একটি জটিল দিক। যখন কেউ তার সঙ্গীর বিশ্বাসভঙ্গ করে পরকীয়া করে ধরা পড়ে, তখন সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এটি সঙ্গীর মধ্যে আস্থা ভঙ্গ, মানসিক কষ্ট এবং সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে।


এরপর কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে, তা সম্পূর্ণভাবে সেই ব্যক্তি বা দম্পতির উপর নির্ভর করে। কেউ কেউ এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য পরামর্শদাতা বা কাউন্সেলরের সাহায্য নিয়ে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করে, আবার কেউ কেউ সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়। যাই হোক না কেন, এমন পরিস্থিতিতে খোলামেলা ও পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় রেখে আলোচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


এক পাগলের গল্প,

 

একদিন এক ছোট শহরের একটি পাগল, যার নাম ছিল রাজু, সে সবার কাছে বেশ পরিচিত ছিল তার অদ্ভুত আচরণের জন্য। শহরের লোকেরা তাকে নিয়ে হাসাহাসি করত, আর সে সারাক্ষণ মনের আনন্দে হাসত আর বিভিন্ন অদ্ভুত কথা বলত। কেউ তাকে গুরুত্ব দিত না, কারণ সবাই ভাবত সে পাগল, তার কথার কোনও মূল্য নেই।


একদিন রাজু শহরের বাজারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে লাগল, "একদিন এই শহরে সোনার বৃষ্টি হবে, সবার জীবনে পরিবর্তন আসবে!" সবাই তাকে নিয়ে আরও বেশি হাসাহাসি শুরু করল, মনে করল সে আবার কোনো নতুন পাগলামি করছে।


কিন্তু কয়েক মাস পর, এক ব্যবসায়ী এই শহরে এসে একটি বড় কারখানা স্থাপন করল। সেই কারখানার জন্য শহরের অনেক লোক চাকরি পেল। ধীরে ধীরে শহরের অর্থনীতি বদলে গেল, আর রাজুর কথাগুলো সত্য হয়ে উঠল। শহরের লোকেরা বুঝতে পারল যে পাগল হলেও রাজুর কথার মধ্যে কিছু গভীরতা ছিল, যা তারা আগে বোঝেনি।


তারপর থেকে, শহরের মানুষ রাজুকে আর অবহেলা করত না। বরং তারা বুঝতে শিখেছিল যে কোনো মানুষের জ্ঞান বা কথা কখনও উপেক্ষা করা উচিত নয়, কারণ কখনও কখনও যাদের আমরা পাগল ভাবি, তাদের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে সত্যের দিশা।


Monday, October 14, 2024

ছেলে মাকে বলছে, মা একটা কথা বলি, আমার একটা অনুরোধ রাখবে?




ছেলে মাকে বলছে, মা একটা কথা বলি, আমার একটা অনুরোধ রাখবে? 
 তুই চাইলে আমি কি না করতে পারি? বল্ তোর সব কথা আমি রাখবো।

তোমার বৌ'মা বলছিল তোমার বয়স হয়েছে। এখন তো তোমার শরীরের একটু বিশ্রাম প্রয়োজন। আর এই বাড়িটা তো খুব একটা ভালো না। ছোট ঘুপচি! তোমার কাশিটাও বেড়ে গেছে। আর ডায়াবেটিস তো আছেই, হার্টের সমস্যা, হাড়ের সমস্যা..... আরো কতো কি!"

হ্যাঁ রে, মনে হয় আর বেশিদিন....!
 আহ্ থামো তো মা। তোমার সব সময় দেখা শোনার জন্য কাউকে রাখতে হবে। 
আচ্ছা আমাকে তাহলে গ্রামের বাড়িতে...।
না না ওই যে বৃদ্ধাশ্রমের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চে ভর্তি করালে কেমন হয়? এটাই বলছিল তোমার বৌ'মা। ওখানে অনেকে থাকবে তোমার মতোই। তাদের সাথে গল্প করতে পারবে আর এ বাড়িতে তো কেউই নেই, আমি ব্যবসায় দৌড়াচ্ছি, তোমার বৌ'মা অফিসে আর মিঠু তো সারাদিনই স্কুলে।ওখানে তুমি আরামেই থাকবে মা। এটাই আমার, মানে আমাদের অনুরোধ ছিল।
আচ্ছা তুই চাইলে তাই হবে।
থ্যাংকস মা......।
আচ্ছা কালকে বিকেলেই কিন্তু তাহলে ওখানে যাচ্ছো। তোমার ব্যাগ গুছিয়ে রাখবে।
পরের দিন, অস্বস্তিকর জ্যামে আটকে আছে মা-ছেলে। নীরবতা ভাঙলেন মা.......!
বাবা ওখানে আমাকে দেখতে যাবি তো? পারলে একটা ফোন কিনে দিস আমাকে। 
--- মা তুমি ফোন দিয়ে কি করবে? ওখানে ফোন আছে তো।
কিছুক্ষন পরে একটা বাড়ির সামনে এসে গাড়ি থামালো। বেশ কিছুক্ষণ নিরব থেকে এবার ছেলে বলে উঠলো।

-নামো মা, এটাই তো ওই বৃদ্ধাশ্রম। বলেছিলাম না তোমার পছন্দ হবে। তোমার জন্য দোতালার দক্ষিণের ঘরটা বুকিং দিয়ে রেখেছি।

টিং ডং টিং ডং (দরজা খুললো)
- হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ ! হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ 'মা' ! ! 

দরজা খুলতেই চমকে গেলেন মা। আরে ওই তো তার একমাত্র নাতি আর বৌ'মা কেক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এতো বেলুন আগে কখনো দেখেননি। এতো আয়োজন করে কখনো কেউ তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছাও জানায় নি। আরে, ওই তো তার দুই মেয়ে আর তাদের জামাই দাঁড়িয়ে।ওদেরও ডেকে এনেছে তার পাগল ছেলেটা।

হ্যাপি বার্থ ডে মা। 
--- তুই অনেক বড় হয়ে গেছিস (মা কান্না ভেজা কন্ঠে)।  কিন্তু, এটা কার ঘর?

--- বাড়ির ফলকে নাম দেখোনি! বাবার নামে রেখেছি। মা পুরো বাড়িটাই আমাদের। এবার তুমি আরামে থাকতে পারবে মা।

--- তুই না ! এমন কি কেউ করে? (কান্না ভেজা চোখে জোরে জোরে মাথা নাড়ছেন। আনন্দে কথা বলতে পারছেন না)

আয়োজন শেষে ঘুমাতে যাবে এমন সময় পেছন থেকে মায়ের ডাক। হাতের ব্যাগটা আতিপাতি খুঁজে একটা কৌটা বের করে ছেলের হাতে ধরিয়ে দিলেন।

--- নে এটার আর দরকার হবে না। (ইঁদুর বিষ) 
চিন্তা করেছিলাম যদি বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসিস তাহলে সেদিনই খেয়ে নেবো। 

--- ধুর মা কি যে বলো ! এটাই তো আমি কাল রাতেই পাল্টে তোমার ক্যালসিয়ামের ওষুধ ভরে রেখেছি। তুমি ঘুমাও। 

মার আজ আর কিছুই চাওয়ার নেই। আর কিছু না হোক তার ছেলেকে অন্তত মানুষ করতে পেরেছে সে। যাক আজকের ঘুমটা সত্যিই আরামের হবে, ঘুমের ঔষুধ খেতে হবে না।

প্রত্যেক সন্তানই যেন মা-বাবাকে এভাবেই ভালোবাসে এবং মা-বাবার শেষ বয়সে যেন তাদেরকে বৃদ্ধাশ্রমে না পাঠায়।❤️


Thanks....
Md Robiul Islam

Sunday, October 13, 2024

(১) ”ঝরে যাওয়া পাতা জানে। স্মৃতি নিয়ে বাঁচার মানে। হয়তো আমি ঝরে যাবো সময়ের তালে তোমার


কষ্টের স্ট্যাটাস ২০২৪






এই পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জীবনে কোনো না কোনো সময় কষ্ট আসে। কষ্ট হতে পারে বিরহের, দুঃখের, অবহেলার। কষ্টের কারণ হতে পারে কাছের মানুষ ছেড়ে চলে যাওয়া, প্রিয় মানুষকে না পাওয়া, অথবা অন্য কোনো কারণে।কষ্টের সময় মানুষের অবস্থা এমন হয় যে, সে তার কষ্টের কথা প্রকাশ করতে পারে না। সে ভাষা হারিয়ে ফেলে। এই কারণে, কষ্টের সময় অনেক মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে তার কষ্ট প্রকাশ করে।আজকের প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি ১০০ টির বেশি কষ্টের স্ট্যাটাস। এই স্ট্যাটাসগুলো আপনার কষ্ট প্রকাশ করতে সাহায্য করবে।

ঝরে যাওয়া পাতা জানে। স্মৃতি নিয়ে বাঁচার মানে।
হয়তো আমি ঝরে যাবো সময়ের তালে তোমার মনে।”

(২)

”আবেগ হল মোমবাতি যা কিছুক্ষণ পর নিভে যায়।
আর বিবেক হল সূর্য যা কখনো নেভে না।”

(৩)

”বিশ্বাস আর নিশ্বাস খুব মূল্যবান !
এক বার হারিয়ে গেলে আর ফিরে আসে না”

(৪)

”যে আমার কান্নার কারণ খুঁজে না,
সে আমার মৃত্যুতেও কষ্ট পাবে না।”

(৫)

”ছেড়ে গিয়েও স্মৃতির মাঝে ডুবিয়ে রাখে যে।
অভিশাপ দিলাম, স্মৃতি ছাড়াই ভালো থাকুক সে।”

(৬)

”পৃথিবীতে সবকিছু বুজতে সময় লাগে,
কিন্তু ভুল বুঝতে একটা মুহূর্তই যথেষ্ট !”

(৭)

”তাকেই বেশি মনে পড়ে যে সারাদিন
একবার ও আমার খোঁজ নেয় না !!”

(৮)

”যে বৃষ্টির ফোঁটা তোমায় আজ নতুন প্রেমের স্পর্শ মাখায়,
সেই বৃষ্টির ফোঁটায় পুরাতন প্রেম দুচোখের জল লুকায়।”

(৯)

”মন তাকেই পছন্দ করে যে ভাগ্যে থাকে না!”

(১০)

”ছেরে দিলে যদি ভালো থাকে তাহলে ছেড়ে দাও,
কারন ভালো রাখার নামই হলো ভালোবাসা।”

(১২)

”মন ভাঙ্গলে চোখের কোনে আছড়ে পড়ে ঢেউ,
বুকে কতটা কান্না চাপা থাকে, জানতে পারেনা কেউ।”

(১৩)

”মনে ছিলো কত সপ্ন, ছিলো কত আশা,
সব কিছুই মিথ্যে ছিলো তোমার ভালোবাসা।”

(১৪)

”তীরটা যখন বুকে ঢুকলো তখন একটুও কষ্ট পায়নি,
যখন দেখলামলা মানুষটা আমারি পরিচিত তখনই কষ্ট পেয়েছি।”

(১৫)

”চাঁদ তুমি শুনবে কি আমার মনের কথা ?
সত্যি বলছি আমিও যে তোমার মত একা ।”

(১৬)

”আমি সবার মন ভালো রাখার চেষ্টা করি,
কিন্তু সবাই ভুলে যায় আমারো একটা মন আছে।”

(১৭)

”নিজেকে যদি শক্তিশালী করে তুলতে চাও,
তাহলে একলা কিভাবে থাকতে হয়, তা শিখে নাও।”

(১৮)

”কার ভিতরে কেমন মানুষ লুকিয়ে আছে,
সেটা শুধু সময় বলে দেয় ।”

(১৯)

”যেখানে স্বপ্ন আমাদের এক করতে পারে না,
সেখানে বাস্তবতা তো নির্মম।”

(২০)

”চায়ের কাপে ভেজানো বিস্কুট একটাই শিক্ষা দেয়,
কারো প্রতি এতটাও ডুবে যেওনা যাতে নিজেকেই ভেংগে পড়তে হয়।”

(২১)

”যে ধোঁকা দেয়, সে চালাক হতে পারে,
তবে যে ধোঁকা খায়, সে বোকা নয়, সে বিশ্বাসী ।”

(২২)

”চিৎকার করে কখনও নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করা যায়না.
মাঝে মাঝে চুপ থাকতে হয় ।”

কষ্টের ক্যাপশন

আমাকে সত্য দিয়ে আঘাত করো, মিথ্যা দিয়ে আমাকে সান্ত্বনা দিও না।”

(২)

”যাদের হৃদয় ভেঙ্গেছে আল্লাহ তাদের সবচেয়ে কাছের।”

(৩)

”আমি আমার আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না। আমি এটিকে ব্যবহার করতে চাই এবং এটিকে উপভোগ করতে চাই।”

(৪)

”মাঝে মাঝে আমার মনে হয়, আমি যা করি তা সবই ভুল।”

(৫)

’আপনি যদি একটি মেয়েকে হাসাতে পারেন তবে সে আপনাকে পছন্দ করবে, আপনি যদি তাকে কাঁদাতে পারেন তবে সে আপনাকে ভালবাসবে।”

(৬)

” আমার নীরবতা আমার কষ্টের আরেকটি শব্দ।”

(৭)

”কখনও কখনও আমরা এমন লোকদের ক্ষমা করে দেই যে, যারা এই ক্ষমার যোগ্যও নয়।”

(৮)

”আমার নীরবতার মানে এই নয় যে আমি হেরে গেছি। আমি বোকাদের সাথে তর্ক করি না।”

(৯)

”আমি বেঁচে থাকতে যদি তুমি আমাকে দেখতে সময় না দিতে পারো, তাহলে আমি চলে গেলে আমার কবরের সামনে দাড়িয়ে কাঁদবে না।”

(১০)

”আপনি যখন একা থাকেন তখন কাউকে আপনার পাশে পাবেন না। তারা যখন একা থাকে তখন তারা আপনার পাশে থাকে।”

(১১)
’পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ যুদ্ধ হল আপনার হৃদয় এবং আপনার মনের মধ্যে চলতে থাকা যুদ্ধ। আপনি বুঝতেই পারবেন না কোনটি শুনবেন। হৃদয় না মন?”

(১২)
”এটা সত্যিই কষ্টের হয় যখন আপনি দেখবেন যে আপনি যাকে ভালোবাসেন, সে আপনাকে খুব সহজেই ভুলে গেছে।”

(১৩)
”অনেক সময় দেখা যায়, যেই মানুষগুলো অনেক বেশি হাসেন বা সবাইকে হাসাতে ভালোবাসেন তারাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট সহ্য করেন।”

(১৪)

”সাময়িক আবেগের জন্য কখনই স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়।”

(১৫)
” আমার প্রতিটি নিঃশ্বাস প্রমাণ করে দেয় যে, আমি তোমাকে ছাড়াই বাঁচতে পারি।”

(১৬)
’ নিঃসঙ্গতাই আমাদের জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর দারিদ্র্যতা।”

(১৭)
” আপনি যখন বিপদে পরবেন তখন আপনি বুঝতে পারবেন কে আসলে আপনার বিপদের বন্ধু।”

(১৮)

”কাউকে আঘাত করা এবং তারপর “সরি” বলা খুব সহজ কিন্তু আঘাত পাওয়ার পর “আমি ভাল আছি” বলা সত্যিই কঠিন।”

(১৯)

” বৃষ্টিতে হাঁটার সবচেয়ে ভালো দিক হল, কেউ জানতে পারবে না যে আপনি কাঁদছেন।”

(২০)

”জীবন শুধুমাত্র একটি উদাহরণে পরিবর্তিত হয় তা ভাল হোক বা খারাপ হোক। আপনাকে পরিবর্তনটি গ্রহণ করতে হবে এবং এটির সেরাটি করতে হবে।”

(২১)

”আবেগপ্রবণ মেয়েদের একটি সদয় হৃদয় আছে এবং তারা কোন অভিনয় ছাড়াই প্রকৃত অনুভূতি দেখাবে।”

(২২)

” আবেগ নিয়ে খেলার চেয়ে আকর্ষণীয় খেলে এই পৃথিবীতে নেই


 

উপসংহার

দুঃখের মুহূর্তে, আমরা প্রায়ই আমাদের আবেগগুলিকে প্রকাশ করার উপায় খুঁজে পাই না। আমরা হতাশ, একা এবং বিভ্রান্ত বোধ করতে পারি। এই সময়ে, সম্পর্কিত শব্দে সান্ত্বনা খুঁজে পাওয়া একটি সান্ত্বনাদায়ক অভিজ্ঞতা হতে পারে।মেয়েদের, ছেলেদের, প্রেম এবং আরও অনেক কিছুর জন্য তৈরি করা দুঃখজনক স্ট্যাটাস বার্তাগুলি মানুষের আবেগের গভীরতার একটি আভাস দেয়। এই উদ্ধৃতিগুলি সান্ত্বনা, বোঝাপড়া বা অনুপ্রেরণার সন্ধানকারীদের জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ হতে পারে। আমাদের এই আর্টিকেলটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না ।

।”

Friday, October 11, 2024

প্রবাসে মা হারানোর ব্যথা....

 


বাদশাহ ভাইয়ের সঙ্গে অনেকদিন সাক্ষাৎ নেই। কোনো একটা কাজে হঠাৎ ফোন দিয়ে যখন জিজ্ঞেস করলাম কেমন আছেন? উত্তর দিলেন ‘ভালো নেই’


কারণ জিজ্ঞেস করার আগেই বললো ‘আমার মা আর দুনিয়াতে নেই। দুই দিন আগে তিনি আমাদের ছেড়ে চিরতরে চলে গেছেন। অথচ একবারের জন্য শেষ দেখা দেখতে পারলাম না।’

জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছিল মায়ের? তিনি বললেন, ‘তেমন কিছু হয়নি। সুস্থ ছিল। রাতে বুকে ব্যথা উঠছে। হঠাৎ করে কি যে হয়ে গেল বুঝতে পারিনি। মা চলে গেছে কিন্তু মাকে এক নজর দেখার সুযোগ হয়নি আমার।’

কান্না বিজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন কুয়েত প্রবাসী বাদশাহ। তার সঙ্গে পরিচয়টা অনেকদিনের। আমাদের দুইজনের বাড়ি চট্টগ্রাম হওয়াতে দেখা হলে খোঁজ-খবর নেয়া হয়। মরুর বুকে যখন একই জেলার একজন বাঙালি অন্য বাঙালিকে দেখে তখন মনটা ভরে যায়। ১ যুগের বেশি সময় ধরে কুয়েত আছেন তিনি। দুই বছর আগে দেশ থেকে ঘুরে এসে আর যেতে পারেননি করোনার কারণে।

বাদশাহ ভাইর সঙ্গে যারা কাজ করে একজন বাঙালি ছাড়া সবাই ভিন্ন দেশের। এই মুহূর্তে তাকে মানসিক সাপোর্ট দেওয়াটা খুব প্রয়োজন। কিন্তু কে দেবে স্বান্তনা! এই প্রবাস জীবনে চোখের পানি মুছে দেয়ার যে কেউ নেই। কোম্পানি থেকে নাকি দুইদিনের ছুটি নিয়েছেন।

এই দুইদিন বাসায় বসে বারবার অতীতে ফিরে যাবে। স্বজন হারানোর ব্যথা যে অনেক কষ্টের। জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটার জানাজা পড়ার সৌভাগ্য হয়নি। মায়ের কবরে এক টুকরা মাটি দেয়ার যে সুযোগ হয়নি তা কি করে ভুলবে!

জিজ্ঞেস করলাম কী করবেন? দেশে চলে যাবেন? তিনি বললেন, ‘কিভাবে যাব? করোনার কারণে প্রায় এক বছর যাবৎ ফ্লাইট বন্ধ। কি করব বুঝছি না। যদি করোনা না থাকত আজ, হয়তো শেষবারের জন্য হলেও মায়ের মুখ দেখতে পেতাম। এক করোনা যেমন মানুষের জীবনকে পাল্টে দিয়েছে তেমনি অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে। যদি দেশে যায় তাহলে একবারে চলে যাব।’

অনেকদিন থেকে বলে আসছিলেন শরীরটা তেমন ভালো যাচ্ছে না। দেশে যাওয়া খুব প্রয়োজন। মা, স্ত্রী-সন্তানদের দেখতে খুব ইচ্ছা করে। বললাম এখন গেলে তো আর আসতে পারবেন না। ফ্লাইট চালু হোক তারপর যাইয়েন। কিন্তু ফ্লাইট চালু হওয়ার আগেই যে মা চলে গেলেন।


দূর দেশে বসে স্বজন হারানোর বেদনা কতটা নিষ্ঠুর হয়, সেটা শুধু তারাই উপলব্ধি করতে পারবে যারা এ ধরনের পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে গেছে। বাদশাহ ভাইয়ের ইচ্ছা ছিল দীর্ঘদিন যেহেতু প্রবাস জীবন কাটিয়ে দিলেন এবার দেশে গিয়ে সময় কাটাব। মায়ের হাতের রান্না খাব। প্রিয়জনদের সময় দেব। কিন্তু বিনা মেঘে বর্জ্যপাতের মতো এমন একটা সংবাদ আসবে কল্পনাও করেনি।

বাস্তব ও নির্মমতার কাছে হার মানতে হয় বাদশাহ ভাইর মতো হাজারো প্রবাসীর। যে মা তার সন্তানদের নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করেন বলে সন্তান কখনোই তার প্রবাস জীবনের কোন কষ্টের কথা তার মাকে জানায়নি, অথচ সেই মাকে হারানোর বেদনা আর কষ্ট নিয়ে প্রতিটি ক্ষণ পার করতে হচ্ছে সন্তানদের।

বাবা বলে, বুকে টেনে নেওয়া মাকে বাদশাহ শেষবার দেখেছিল দুই বছর আগে। হয়তো মা চাইনি তার সন্তানকে বিদায় দিতে। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে চলে যে আসতে হবে।

বাবা-মায়ের হাজারও স্মৃতি এভাবেই বুকে আকঁড়ে ধরে, কান্না চেপে রেখে, কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে স্বপ্ন পূরণে এক পা, দুই পা করে এগোচ্ছে প্রবাসীরা। প্রবাস হয়তো দিতে পারে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা, তবে মুহূর্তের মধ্যে এটি ছিনিয়েও নিতে পারে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পর্ক আর বন্ধনকে। জীবনে সুখের সময় এভাবে হারিয়ে যায় প্রিয় মানুষগুলো। একটিবার দেখার সুযোগ হয় না। লক্ষ কোটি টাকা থাকলেও সে টাকা তখন কাজে আসে না।


Wednesday, October 9, 2024

এক বাবার কিছু কথা, চোখে পানি চলে আসবে

 


গসিপ ডেস্ক : কথায় আছে আজকের শিশুই আগামী দিনের পিতা। আজ যে শিশুর জন্ম হলো সে-ই আগামী দিনে কারো বাবা হবেন। সবার জীবনধারায় শিশু থেকে বাবা হওয়ার পথ পরিক্রমায় প্রকৃতির নিয়মে বাস্তব অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়ে যায়। আর একটা সময় জীবনের বাস্তবতাগুলো প্রকৃতির নিয়মে প্রকাশিত হয়ে শিশু থেকে আজকে যিনি বাবা হলেন তার সামনে এসেও ধরা দেয়।  বাবা-ছেলের কথোপকথনে এমন বাস্তব কিছু বিষয় উঠেছে। সত্যি এসব বিষয়গুলো হৃদয়ঙ্গম করলে প্রত্যেকটি ছেলের মন বাবার প্রতি শ্রদ্ধায় ও ভালোবাসায় অবনত হয়ে যাবে। পাশাপাশি প্রত্যেক বাবা-ছেলের মাঝে ভালোবাসার একেকটি সেতুবন্ধন গড়ে উঠেবে। বাবা-ছেলের কথোকথনে বাস্তব এমন কিছু বিষয় উঠে এসেছে। তাহলে চোখে জল আসার মতো তাদের সেই কথপোকথনের বিস্তারিত জানা যাক-\


ছেলে: “বাবা তুমি তো বলেছিলে পিতৃ ঋণ কোনদিন শোধ হয় না। তুমি ছাব্বিশ বছরে আমার পেছনে যত টাকা খরচ করেছো তুমি কি জানো আমি আগামী তিন বছরে সে টাকা তোমায় ফিরিয়ে দিতে পারবো”।

বাবা : ( কিছুটা মুচকি হেসে) “একটা গল্প শুনবি?”
ছেলেটা কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল। নিচু স্বরে বললো-
“বলো বাবা শুনবো……”


তোর বয়স যখন চার আমার মাসিক আয় তখন দু হাজার টাকা। ওই টাকায় সংসার চালানোর কষ্ট বাড়ির কাউকে কখোনো বুঝতে দেইনি। আমি আমার সাধ্যের মধ্যে সব সময় চেষ্টা করেছি তোর ‘মা কে ‘সুখী করতে। তোকে যেবার স্কুলে ভর্তি করলাম সেবার ই প্রথম আমরা দুজন- আমি-আর তোর মা পরিকল্পনা করেছি আমরা তোর পড়ার খরচের বিনিময়ে কি কি ত্যাগ করবো।


সে বছর তোর মাকে কিছুই দিতে পারিনি আমি। তুই যখন কলেজে উঠলি আমাদের অবস্থা তখন মোটা মুটি ভাল। কিন্তু খুব কষ্ট হয়ে গেছিল যখন তোর মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। ঔষধ কেনার জন্য রোজ রোজ ওভারটাইম করে বাসে করে পায়ে হেটে ঘামে ভিজে বাড়ি ফিরতে খুব দুর্বিষহ লাগতো। কিন্তু কখনো কাউকে বুঝতে দিইনি এমনকি তোর মাকেও না।

একদিন শো রুম থেকে একটা বাইক দেখে আসলাম। সে রাতে আমি স্বপ্নেও দেখেছিলাম আমি বাইকে চড়ে কাজে যাচ্ছি। কিন্তু পরের দিন তুই বায়না ধরলি ল্যাপটপ এর জন্য। তোর কষ্টে আমার কষ্ট হয় বাবা। আমি তোকে ল্যাপটপ টা কিনে দিয়েছিলাম। আমার তখনকার এক টাকা তোর এখন এক পয়সা! কিন্তু মনে করে দেখ এই এক টাকা দিয়ে তুই বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করেছিস। ব্র্যান্ড নিউ মোবাইলে হেড ফোন কানে লাগিয়ে সারা রাত গান শুনেছিস। পিকনিক করেছিস, ট্যুর করেছিস, কন্সার্ট দেখেছিস। তোর প্রতিটা দিন ছিল স্বপ্নের মতো।


আর তোর একশ টাকা নিয়ে আমি এখন সুগার মাপাই। জানিস আমার মাছ খাওয়া নিষেধ, মাংস খাওয়া নিষেধ, কি করে এত টাকা খরচ করি বল! তোর টাকা নিয়ে তাই আমি কল্পনার হাট বসাই। সে হাটে আমি বাইক চালিয়ে সারা শহর ঘুরে বেড়াই। বন্ধুদের নিয়ে সিনেমা দেখতে যাই। তোর মায়ের হাত ধরে তাঁত মেলায় ঘুরে বেড়াই।

বাবারা নাকি “খাড়ুশ টাইপের” হয় । আমিও আমার বাবাকে তাই ভাবতাম। পুরুষ থেকে পিতা হতে আমার কোনো কষ্ট হয়নি, সব কষ্ট তোর মা সহ্য করেছে। কিন্তু বিশ্বাস কর পিতা থেকে দ্বায়িত্বশীল পিতা হবার কষ্ট একজন পিতাই বোঝে। যুগে যুগে সর্বস্থানে মাতৃবন্দনা হলেও পিতৃবন্দনা কোথাও দেখেছিস ?

পিতৃবন্দনা আমি আশাও করি না। সন্তানের প্রতি ভালোবাসা কোনো পিতা হয়তো প্রকাশ করতে পারে না, তবে কোনো পিতা কখনোই সন্তানের প্রতি দ্বায়িত্ব পালনে বিচ্যুত হয় না। আমি তোর পেছনে আমার যে কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করেছি তা হয়তো তুই তিন বছরে শোধ দিতে পারবি…
কিন্তু যৌবনে দেখা আমার স্বপ্ন গুলো ?
যে স্বপ্নের কাঠামোতে দাঁড়িয়ে তুই আজ তোর ঋণশোধের কথা বলছিস.
সেই স্বপ্নগুলো কি আর কোনোদিন বাস্তব রুপ পাবে ?

আর যদি বলিস বাবা আমি তোমার টাকা না তোমার ভালোবাসা তোমায় ফিরিয়ে দেব, তাহলে বলবো বাবাদের ভালোবাসা কখনো ফিরিয়ে দেয়া যায় না।

তোকে একটা প্রশ্ন করি, ধর তুই আমি আর তোর খোকা তিন জন এক নৌকায় বসে আছি। হঠাৎ নৌকাটা ডুবতে শুরু করলো….
যে কোনো একজনকে বাঁচাতে পারবি তুই।
কাকে বাঁচাবি ?
( ছেলেটা হাজার চেষ্টা করেও এক চুল ঠোঁট নড়াতে পারছেনা! )
উত্তর দিতে হবে না। ছেলেরা বাবা হয়, বাবা কখনো ছেলে হতে পারে না।
পৃথিবীতে সব চেয়ে ভারী জিনিস কি জানিস?
পিতার কাঁধে পুত্রের লাশ!
আমি শুধু আল্লাহর কাছে একটা জিনিস চাই।
আমার শেষ যাত্রায় যেন আমি আমার ছেলের কাঁধে চড়ে যাই। তাহলেই তুই একটা ঋণ শোধ করতে পারবি –
তোকে কোলে নেবার ঋণ ।

তাদের ছায়া”

 তাদের ছায়া” আরো কিছু জানতে এখানে ক্লিক করুন   একটি ছোট গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিল রাহুল। বাবার ছিল না বড় কোনো চাকরি, আর মা ছিলেন গ...