😭বাস্তব জীবনের মর্মান্তিক একটি গল্প চাই😭
একটি নিষ্পাপ স্বপ্নের করুণ পরিণতি
আরো বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন,,,
সজীব ছিল একদম সাধারণ একটি ছেলে। বাবা ছিলেন দিনমজুর, মা গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই সজীবের স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে শিক্ষক হবে, বাচ্চাদের পড়াবে, সমাজে সম্মান পাবে। কিন্তু দরিদ্রতার কারণে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা চালাতে হয়েছিল তাকে।
কলেজে উঠার পর সজীব টিউশনি শুরু করল। সকালে ক্লাস, বিকেলে টিউশনি, রাতে নিজে পড়াশোনা—এই কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই তার দিন কাটত। কিন্তু এই কঠোর পরিশ্রমের মাঝেও সে কখনো তার স্বপ্ন থেকে সরে আসেনি।
একদিন হঠাৎই তার জীবনে নেমে এলো এক ভয়ানক বিপর্যয়। বাবার অসুস্থতা ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকল, চিকিৎসার জন্য দরকার অনেক টাকা। যে সামান্য উপার্জন করত, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছিল, চিকিৎসা তো দূরের কথা!
চাপের মুখে পড়ে সজীব বাধ্য হয়ে আরও বেশি টিউশনি নিতে লাগল, কিন্তু নিজের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটতে থাকল। তবুও সে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। তবে একসময় বাবার অবস্থার অবনতি হতে হতে একদিন হাসপাতালের বিছানায় চিরতরে থেমে গেল তার নিঃশ্বাস।
সজীব যেন একেবারে ভেঙে পড়ল। বাবাকে বাঁচাতে পারেনি, স্বপ্নও যেন ফিকে হতে থাকল। একদিকে পরিবারের দায়িত্ব, অন্যদিকে নিজের পড়াশোনা—সব মিলিয়ে সে দিশেহারা হয়ে পড়ল। একসময় আর টানতে পারল না, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার আগের দিন রাতে একখণ্ড চিরকুট রেখে পৃথিবীকে বিদায় জানাল সে—
"আমি ক্লান্ত। খুব চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পারলাম না। মা, আমাকে ক্ষমা করো।"
সজীবের মৃত্যু কেবল তার পরিবারের জন্য নয়, সমাজের জন্যও এক ভয়ানক আঘাত হয়ে রইল। যেখানে তার উচিত ছিল স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাওয়া, সেখানে কঠিন বাস্তবতার শিকার হয়ে তাকে থেমে যেতে হলো।
এটি শুধু সজীবের গল্প নয়, আমাদের সমাজের অনেক হতভাগ্য তরুণের গল্প, যারা প্রতিদিন টিকে থাকার সংগ্রামে লড়ছে, কিন্তু সবসময় জয়ী
হতে পারে না...
মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম

