- বৃদ্ধাশ্রম কত কষ্টের জীবন এর একটি ঘটন
- বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন
গল্প: "অপেক্ষার শেষ নেই"
রেহানা বেগমের বয়স ৭৫ বছর। একসময় তিনি ছিলেন একটি সুখী পরিবারের স্তম্ভ। দুই ছেলে, এক মেয়ে আর স্বামী নিয়ে তার জীবন ছিল পূর্ণ। সন্তানদের মানুষ করতে গিয়ে নিজের সব ইচ্ছা-স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছিলেন। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার জীবনের দৃশ্যপট পুরোপুরি পাল্টে গেল।
স্বামী মারা যাওয়ার পর ছেলে-মেয়েরা একে একে নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। একদিন বড় ছেলে বলল, "মা, তুমি তো বয়সে অনেক বড় হয়ে গেছ। আমাদের সময় নেই তোমার সেবা করার। বৃদ্ধাশ্রমে গেলে তুমি ভালো থাকবে।"
রেহানা বেগম কোনো কথা বললেন না। চোখের জল মুছে চলে গেলেন বৃদ্ধাশ্রমে।
বৃদ্ধাশ্রমের জীবনে কষ্ট আর নিঃসঙ্গতা তার নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে। আশ্রমের সবাই যেন তাকে দেখে তার নিজের দুঃখের কথা ভুলে থাকতে চেষ্টা করে। প্রতিদিন বিকেলে রেহানা বেগম চুপচাপ আশ্রমের বাগানে বসে থাকেন। দূরের আকাশে তাকিয়ে ভাবেন, "আমার সন্তানরা কি কখনো আমার কথা ভাবে? আমাকে কি একবার দেখতে আসবে?"
ঈদের দিন আসলে তিনি আরও বেশি ব্যাকুল হয়ে পড়েন। আশ্রমের অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সন্তানরা এদিন তাদের দেখতে আসে। কিন্তু রেহানা বেগমের সন্তানদের কেউ আসে না। একদিন তিনি আশ্রমের এক কর্মচারীকে বলেন, "জানো, আমি ওদের জন্য কত কষ্ট করে বড় করেছি। কিন্তু এখন ওদের কাছে আমি বোঝা। হয়তো একদিন ওরাও এই কষ্ট বুঝবে।"
বার্তা:
বৃদ্ধাশ্রমে থাকা মানুষদের জীবন একা এবং কষ্টকর। যাদের জন্য একসময় তারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাদের কাছ থেকেই তারা অবহেলা পান। আমাদের সবার উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের ভালোবাসা ও যত্ন দেওয়া। পরিবার ও সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া মানুষের প্রধান দায়িত্ব।
মোঃ রবিউল ইসলাম
