বাবা— দুই অক্ষরের এই নামটি উচ্চারিত হলেই যেকোনো সন্তানের হৃদয়ে জেগে উঠে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার অনুভূতি। একজন সন্তানের জীবনে বাবার অবদান বলে শেষ করা যাবে না। বাবা অনেকটা মোমবাতির মতো, যে নিজে জ্বলে পরিবারকে আলোকিত করে।
গত 27-04-204 ইং তারিখ মঙ্গলবার বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কাটতে গিয়েছিলাম। অগ্রিম টিকিট যেখানে দেয় ঠিক তার গেটের সামনে এক বৃদ্ধ অসহায় মানুষকে অসুস্থ অবস্থায় বসে থাকতে দেখলাম। ভিক্ষুকের মত নোংরা পোশাক কিন্তু তাকে দেখে কোন ভিক্ষুক মনে হচ্ছে না। কাছে গেলাম জিজ্ঞাসা করলাম কোথায় যাবেন? উত্তর: তিনি সিলেট যেতে চান। কপালে হাত দিয়ে দেখলাম গায়ে প্রচন্ড জ্বর, নড়াচড়া করতে পারছেন না, কাপতেছে, উপরুন্ত ক্ষুধার্থ। তার আশে পাশে কোন নিকট আত্মীয় দেখলাম না। অফিসের জরুরী কাজে ব্যাস্ত থাকায় তাকে ট্রেনে উঠিয়ে দিতে পারিনি। কিছু ফলমুল, খাবার পানি ও ঔষধ কিনে দিয়ে আসলাম আর বললাম বাবা আপনি একটু সুস্থ হলে ট্রেন ধরে বাড়ী চলে যান।
ফিরে আসার পর থেকে অন্তরে বার বার অনুতপ্ত হতে থাকে বৃদ্ধা মানুষটির এখন কি অবস্থা !!!! পরেরদিন 28-04-2024 ইং তারিখ, আবার অফিস শেষে তাকে রাতে দেখতে গেলাম। তিনি যেখানে বসে আছেন সেই গেটের সামনে একটি ফেক্সিলোডের দোকান আছে দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করলাম লোকটি কে ?? আপনি কি কিছু জানেন ?? তিনি বললেন। আমি যখন তাকে দেখি তখন তার গায়ে সুন্দর পোশাক (পাঞ্জাবী), লুঙ্গী ছিল, স্বাভাবিক মানুষ হিসাবে ঘুরা-ফিরা করতেছিলেন। বিগত ৩ দিন যাবত তিনি জ্বরে অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন। নড়াচড়া করতে পারছেন না। আমি উক্ত বৃদ্ধ বাবাকে জিজ্ঞাসা করলাম বিভিন্ন প্রশ্ন করলাম। সম্ভবত তার হালকা মানসিক সমস্যা আছে। তার ২ ছেলে-মেয়ে। তারা তাকে বাড়ী থেকে বেড় করে দিয়েছে বলে কান্নাকাটি করছে।
দোকানদার বললো তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় স্টেশনের টোকাইরা তার ভাল ভাল পোশাকগুলো ব্যাগপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে।
বৃদ্ধবাবার বাকী পোশাকগুলো একটি পুটলি ঘাটাঘাটি করে বেশকিছু টাকা-পয়সা পেলাম।
বিষয়টি নিয়ে তার সন্ধান ও সহযোগিতা (হাসপাতালে ভর্তি করানোর সহযোগিতা) চেয়ে সেদিন রাতে ফেসবুকে আমার ওয়াল ও দুইটি জনপ্রিয় গ্রুপ, সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪ লক্ষ "DSE ও DSD" এ পোস্ট দিলাম।
ঘটনা-২
ফেসবুকে উক্ত বিষয় শেয়ার করার পর বুধবার ও বৃহস্পতিবারের বৃদ্ধ বাবার আপডেট নিউজ জানতে আমার ইনবক্সে অনেক সংখ্যক এসএমএস আসতে থাকে । সকলের উদ্দেশ্যে উত্তর দিয়ে ঐ গ্রুপে আমার ২য় পোস্ট ছিল-
Update news
29-04-2024 যথারীতি সকাল ৯টায় আবার উপস্থিত হলাম স্টেশনে। কোন একটা ফেসবুক ইউজারকে সাথে পেলাম না। ( শুধু সেদিন দুপুরে ধ্রুব ভাই এসেছিলেন হাসপাতালে) বাধ্য হয়ে স্টেশন থেকে মানুষ ভাড়া করে নিয়ে কাজ করতে হল।
তারজন্য নতুন লুঙ্গী, গেঞ্জি, গামছা কিনলাম। খাবারের ব্যবস্থা করলাম। এরপর শুরু হলো গোসল প্রক্রিয়া কারণ নড়াচড়া করতে না পাড়ায় প্রসাব পায়খান করে নোংরা হয়ে গিয়েছিলেন। তারপর একটি সিএনজি ভাড়া করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেই।
চিকিৎসার আপডেট নিউজ ছিল এইরকম
ফিরে আসার পর থেকে অন্তরে বার বার অনুতপ্ত হতে থাকে বৃদ্ধা মানুষটির এখন কি অবস্থা !!!! পরেরদিন ২৮/১২/২০১৬ ইং তারিখ, আবার অফিস শেষে তাকে রাতে দেখতে গেলাম। তিনি যেখানে বসে আছেন সেই গেটের সামনে একটি ফেক্সিলোডের দোকান আছে দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করলাম লোকটি কে ?? আপনি কি কিছু জানেন ?? তিনি বললেন। আমি যখন তাকে দেখি তখন তার গায়ে সুন্দর পোশাক (পাঞ্জাবী), লুঙ্গী ছিল, স্বাভাবিক মানুষ হিসাবে ঘুরা-ফিরা করতেছিলেন। বিগত ৩ দিন যাবত তিনি জ্বরে অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন। নড়াচড়া করতে পারছেন না। আমি উক্ত বৃদ্ধ বাবাকে জিজ্ঞাসা করলাম বিভিন্ন প্রশ্ন করলাম। সম্ভবত তার হালকা মানসিক সমস্যা আছে। তার ২ ছেলে-মেয়ে। তারা তাকে বাড়ী থেকে বেড় করে দিয়েছে বলে কান্নাকাটি করছে।
দোকানদার বললো তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় স্টেশনের টোকাইরা তার ভাল ভাল পোশাকগুলো ব্যাগপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে।
বৃদ্ধবাবার বাকী পোশাকগুলো একটি পুটলি ঘাটাঘাটি করে বেশকিছু টাকা-পয়সা পেলাম।
বিষয়টি নিয়ে তার সন্ধান ও সহযোগিতা (হাসপাতালে ভর্তি করানোর সহযোগিতা) চেয়ে সেদিন রাতে ফেসবুকে আমার ওয়াল ও দুইটি জনপ্রিয় গ্রুপ, সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪ লক্ষ "DSE ও DSD" এ পোস্ট দিলাম।
ঘটনা-২
ফেসবুকে উক্ত বিষয় শেয়ার করার পর বুধবার ও বৃহস্পতিবারের বৃদ্ধ বাবার আপডেট নিউজ জানতে আমার ইনবক্সে অনেক সংখ্যক এসএমএস আসতে থাকে । সকলের উদ্দেশ্যে উত্তর দিয়ে ঐ গ্রুপে আমার ২য় পোস্ট ছিল-
Update news
২৯ ডিসেম্বর ২০১৬ গত বৃহস্পতিবার যথারীতি সকাল ৯টায় আবার উপস্থিত হলাম স্টেশনে। কোন একটা ফেসবুক ইউজারকে সাথে পেলাম না। ( শুধু সেদিন দুপুরে ধ্রুব ভাই এসেছিলেন হাসপাতালে) বাধ্য হয়ে স্টেশন থেকে মানুষ ভাড়া করে নিয়ে কাজ করতে হল।
তারজন্য নতুন লুঙ্গী, গেঞ্জি, গামছা কিনলাম। খাবারের ব্যবস্থা করলাম। এরপর শুরু হলো গোসল প্রক্রিয়া কারণ নড়াচড়া করতে না পাড়ায় প্রসাব পায়খান করে নোংরা হয়ে গিয়েছিলেন। তারপর একটি সিএনজি ভাড়া করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেই।
চিকিৎসার আপডেট নিউজ ছিল এইরকম
ফিরে আসার পর থেকে অন্তরে বার বার অনুতপ্ত হতে থাকে বৃদ্ধা মানুষটির এখন কি অবস্থা !!!! পরেরদিন ২৮/১২/২০১৬ ইং তারিখ, আবার অফিস শেষে তাকে রাতে দেখতে গেলাম। তিনি যেখানে বসে আছেন সেই গেটের সামনে একটি ফেক্সিলোডের দোকান আছে দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করলাম লোকটি কে ?? আপনি কি কিছু জানেন ?? তিনি বললেন। আমি যখন তাকে দেখি তখন তার গায়ে সুন্দর পোশাক (পাঞ্জাবী), লুঙ্গী ছিল, স্বাভাবিক মানুষ হিসাবে ঘুরা-ফিরা করতেছিলেন। বিগত ৩ দিন যাবত তিনি জ্বরে অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন। নড়াচড়া করতে পারছেন না। আমি উক্ত বৃদ্ধ বাবাকে জিজ্ঞাসা করলাম বিভিন্ন প্রশ্ন করলাম। সম্ভবত তার হালকা মানসিক সমস্যা আছে। তার ২ ছেলে-মেয়ে। তারা তাকে বাড়ী থেকে বেড় করে দিয়েছে বলে কান্নাকাটি করছে।
দোকানদার বললো তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় স্টেশনের টোকাইরা তার ভাল ভাল পোশাকগুলো ব্যাগপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে।
বৃদ্ধবাবার বাকী পোশাকগুলো একটি পুটলি ঘাটাঘাটি করে বেশকিছু টাকা-পয়সা পেলাম।
বিষয়টি নিয়ে তার সন্ধান ও সহযোগিতা (হাসপাতালে ভর্তি করানোর সহযোগিতা) চেয়ে সেদিন রাতে ফেসবুকে আমার ওয়াল ও দুইটি জনপ্রিয় গ্রুপ, সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪ লক্ষ "DSE ও DSD" এ পোস্ট দিলাম।
ঘটনা-২
ফেসবুকে উক্ত বিষয় শেয়ার করার পর বুধবার ও বৃহস্পতিবারের বৃদ্ধ বাবার আপডেট নিউজ জানতে আমার ইনবক্সে অনেক সংখ্যক এসএমএস আসতে থাকে । সকলের উদ্দেশ্যে উত্তর দিয়ে ঐ গ্রুপে আমার ২য় পোস্ট ছিল-
Update news
২৯ ডিসেম্বর ২০১৬ গত বৃহস্পতিবার যথারীতি সকাল ৯টায় আবার উপস্থিত হলাম স্টেশনে। কোন একটা ফেসবুক ইউজারকে সাথে পেলাম না। ( শুধু সেদিন দুপুরে ধ্রুব ভাই এসেছিলেন হাসপাতালে) বাধ্য হয়ে স্টেশন থেকে মানুষ ভাড়া করে নিয়ে কাজ করতে হল।
তারজন্য নতুন লুঙ্গী, গেঞ্জি, গামছা কিনলাম। খাবারের ব্যবস্থা করলাম। এরপর শুরু হলো গোসল প্রক্রিয়া কারণ নড়াচড়া করতে না পাড়ায় প্রসাব পায়খান করে নোংরা হয়ে গিয়েছিলেন। তারপর একটি সিএনজি ভাড়া করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেই।
চিকিৎসার আপডেট নিউজ ছিল এইরকম
তার শ্বাসকস্ট, গায়ে বর্তমান ১০২ ডিগ্রীূ জ্বর, বুকে ব্যাথা। প্রেসার ১৩০/৮০। তাকে মাঝে মাঝে নেবুলাইজার ও অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। ডাক্তার বেশকিছু টেস্ট দিয়েছেন । ঐগুলো এখনো করা হয়নি ।
বৃদ্ধবাবার বক্তব্য-
আমি একবার ভুল করে তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম বাবা আপনি কি ভিক্ষুক? তিনি মন খারাফ করেছিলেন আর বলছে না বাবা না। আমার সম্পত্তি ছিল। ছেলে মেয়েরা লিখে নিয়েছে। তারপর বিভিন্ন অযুহাতে তাকে বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছে। তিনি বললেন তার বাড়ী সিলেটের গোলাপগঞ্জে। আর কিছু বলতে পারেন না। সুস্থ করে তাকে বাড়ী পাঠিয়ে দিব বললে তিনি কান্নাকাটি করছেন আর বলছেন তিনি আর কখনও বাড়ীতে ফিরে যাবেন না।
তিনি বার বার আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করার চেস্টা করছেন আর বলছেন বাবা আপনি আমার ছেলে। আমাকে তিনি হাসপাতাল থেকে কিছুতেই আসতে দিতে চাননি। পরবর্তী
ফেসবুকের এক দায়িত্বশীল ভাইয়ের সাথে কথা হল। তিনি বাকী কাজগুলো/ দায়িত্ব পালন করবেন বলে কথা দিয়েছেন।
ঘটনা ৩
গ্রুপে পোস্ট দেয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, উক্ত গ্রুপগুলোর এডমিন প্যানেল/ সদস্যদের, পুলিশ প্রশাসন সহ সকলের অন্তরে ব্যাপক মানবিক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে সকলেই পালাক্রমে তার খোজ খবর নিতে থাকে ও হাসপাতালে িরাতে দিনে পালাক্রমে সেবা করতে থাকেন ।
Md Robiul islam
No comments:
Post a Comment