- এক অভাগা নারীর গল্প
- বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
এক- সময়ের কথা। গ্রামের এক দরিদ্র ঘরে জন্ম নেয় এক মেয়ে, নাম তার ফুলমণি। ফুলমণির জন্মের পর থেকেই নানা বিপদ-আপদে জর্জরিত হয় তার জীবন। মা-বাবা দুজনই শ্রমিক, সারাদিন খেটে দিন শেষে এক মুঠো ভাত জোগাড় করতে হিমশিম খেতেন। ছোটবেলাতেই মা মারা গেলে ফুলমণি সংসারের সমস্ত কাজের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয়।
ফুলমণি দেখতে সুন্দর ছিল, কিন্তু ভাগ্য ছিল তার কঠিন। গ্রামের মানুষজন মেয়েটিকে সহানুভূতির চোখে দেখলেও, কেউ তার পাশে দাঁড়াতে সাহস করত না। একদিন গ্রামেরই এক ধনী পরিবারের ছেলে মেয়েটিকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। কিন্তু সংসারের চাপে, বিয়ের পরেও ফুলমণির জীবনটা বদলায় না।
স্বামীর পরিবার ফুলমণিকে আপন করে নেয় না, বরং নানা অজুহাতে তাকে কাজে কাজে নানাভাবে নির্যাতন করতে শুরু করে। একদিন ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ে ফুলমণি। স্বামীও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চায় না।
এরপরেও ফুলমণি হাল ছাড়েনি। নিজের ছোট ছোট স্বপ্নগুলো বাঁচিয়ে রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যায়। অনেক কষ্টের পর, তার ছেলেমেয়েরা একটু একটু করে বড় হয় এবং তাদের মানুষ করতে গিয়ে ফুলমণি যেন নিজের জীবনকে বিসর্জন দেয়।
শেষ পর্যন্ত যখন ছেলেমেয়েরা নিজের পায়ে দাঁড়ায়, ফুলমণির মনে শান্তি আসে। নিজের সকল কষ্ট ভুলে সে খুশি থাকে এই ভেবে যে, তার সংগ্রামের ফলস্বরূপ তার সন্তানরা ভালো আছে। তার জীবন যেন ত্যাগের এক গল্প হয়ে থেকে যায়।
এভাবেই ফুলমণির জীবন সংগ্রামের মাঝে ছোট ছোট খুশির ছোঁয়া পায়, যদিও তার নিজের জীবনে সুখ বলতে ছিল না।
ধন্যবাদ
মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম


No comments:
Post a Comment